ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও প্রবাসীদের ঘুমহীন রাত: স্বদেশচেতনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অনার্স কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগ একান্ত জরুরি।  সাংসদ এম এ হান্নান-কে এক গণসংবর্ধনা প্রদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। খুলনা দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায়  যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালিত । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! খন্ড খন্ডভাবে নয়; একযোগে  ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ চাই  আ’মলের তাৎপর্য (৪) প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

রূপগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নজরুল ইসলাম বাদল
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ১২০ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামে জনবসতি ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে স্থাপিত একটি ৩৩ কেভি হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ও জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ‘কাঞ্চন পুবাইল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড’-এর এই বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে আসছে।

এ সংযোগ অপসারণের দাবিতে শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের আধুরিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ অপসারণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম নয়ন, আল আমিন, মাওলানা আব্দুর রশিদ, রিপন মিয়া, আরিফ, ইবরাহিম মিয়া, সুমন, সঞ্জয় দাস, আলমগীর হোসেন, বাদল মিয়া, নুর আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে নেওয়া হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের শর্টসার্কিট ও ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে গত বছর সামিয়া নামে এক শিশু দগ্ধ হয়। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ অব্যাহত রাখা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সর্বশেষ গত ২৭ মে আরিফ নামে এক যুবক একই ধরনের দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনার পরও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে। পাশাপাশি রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দ্রুত এই হাইভোল্টেজ সংযোগ অপসারণ করে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ অপসারণ না করা হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রূপগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামে জনবসতি ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে স্থাপিত একটি ৩৩ কেভি হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ও জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ‘কাঞ্চন পুবাইল পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড’-এর এই বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে আসছে।

এ সংযোগ অপসারণের দাবিতে শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের আধুরিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ অপসারণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম নয়ন, আল আমিন, মাওলানা আব্দুর রশিদ, রিপন মিয়া, আরিফ, ইবরাহিম মিয়া, সুমন, সঞ্জয় দাস, আলমগীর হোসেন, বাদল মিয়া, নুর আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে নেওয়া হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের শর্টসার্কিট ও ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে গত বছর সামিয়া নামে এক শিশু দগ্ধ হয়। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ অব্যাহত রাখা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সর্বশেষ গত ২৭ মে আরিফ নামে এক যুবক একই ধরনের দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনার পরও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে। পাশাপাশি রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দ্রুত এই হাইভোল্টেজ সংযোগ অপসারণ করে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ অপসারণ না করা হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।