ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও প্রবাসীদের ঘুমহীন রাত: স্বদেশচেতনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অনার্স কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগ একান্ত জরুরি।  সাংসদ এম এ হান্নান-কে এক গণসংবর্ধনা প্রদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। খুলনা দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায়  যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালিত । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! খন্ড খন্ডভাবে নয়; একযোগে  ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ চাই  আ’মলের তাৎপর্য (৪) প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি।

ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

 মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি।

আমি শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক, আন্তঃপরীক্ষক, বহিঃপরীক্ষক ,  মাস্টার ট্রেইনার ও ভিজিলেন্স টিম সহ বেশ কিছু কাজের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত।  এছাড়াও TTকলেজ, BANBEIS, BCC  ও HSTTI তে ১৪/২৭ /৪ ০ দিনের প্রশিক্ষণে গিয়ে সারাদেশের শিক্ষকবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগ আমার হয়েছে। তাতে মনে হয়েছে মানসম্মত শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা  শুরু হয়েছে  আমাদের ঘর থেকেই। তার কয়েকটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি—–

কেস স্টাডি -১: একটি মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণের চিন্তাভাবনা করার জন্য হাউজে কথা উঠালে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি বললেন. “আজ প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে আর কাল আমাকে বান্দরবান, পরশু আমাকে কক্সবাজার পাঠাবেন? দরকার নেই এসব।

কেস স্টাডি -২: একটি হাই স্কুল।  আগে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরও MPOভুক্ত ছিল। হাই স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ দেখলেন প্রভাষকবৃন্দ ৩ দিন আসেন ২ টি করে ক্লাস নেন, বেশি বেতন পান, এটা প্রেস্টিজের ব্যাপার।  তারা চক্রান্ত করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর তুলে দিলেন।

কেস স্টাডি -৩:   একটি None  MPO উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের  অধ্যক্ষ।  তার NTRCA সনদ নাই বলে নিয়োগ নিতে পারেননি।  তার জানেন  “প্রতিষ্ঠান MPOভুক্ত হলেতো আমার প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে। কি দরকার MPOভুক্ত করে?” লুটে পুটে খাই।

কেস স্টাডি -৪: একটি বি.এম  কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষককে বললাম “আপনারা প্রতিষ্ঠান MPO করেন না কেন? তিনি বললেন “MPOভুক্ত হলে দেশী বিদেশী মোটা অনুদান বন্ধ হবে, মারিং কাটিং, বিল ভাউচার চলবে না।”

কেস স্টাডি -৫: একজন স্কুল এন্ড  কলেজের প্রধান শিক্ষক বললেন “আমি যতদিন আছি, ততদিন উচ্চ মাধ্যমিক স্তর MPOভুক্ত হতে দিব না।” তার মাস্টার্স নাই, বাকী সব ৩য় বিভাগ।

কেস স্টাডি -৬: একজন ডিগ্রি  কলেজের ( ডিগ্রি স্তর None MPO) অধ্যক্ষ বললেন “উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দের জ্বালায়-ই অতিষ্ঠ আবার ডিগ্রি স্তর? যত্তসব!

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ! বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে তন্মধ্যে NTRCA এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ। শিক্ষা সচেতন মহল এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

তাই অনতিবিলম্বে আপনার সোনালি সময়কে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখতে  স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ চালু করে আপামর জনগণের চাহিদা পূরণ করবেন এ প্রত্যাশা  রইল।
——————–
ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
গবেষক ও কলামিস্ট, সিলেট
dr.1979sharif@gmail.com

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
superadmin
ট্যাগস :

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি।

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি।

আমি শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক, আন্তঃপরীক্ষক, বহিঃপরীক্ষক ,  মাস্টার ট্রেইনার ও ভিজিলেন্স টিম সহ বেশ কিছু কাজের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত।  এছাড়াও TTকলেজ, BANBEIS, BCC  ও HSTTI তে ১৪/২৭ /৪ ০ দিনের প্রশিক্ষণে গিয়ে সারাদেশের শিক্ষকবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগ আমার হয়েছে। তাতে মনে হয়েছে মানসম্মত শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা  শুরু হয়েছে  আমাদের ঘর থেকেই। তার কয়েকটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি—–

কেস স্টাডি -১: একটি মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণের চিন্তাভাবনা করার জন্য হাউজে কথা উঠালে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি বললেন. “আজ প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে আর কাল আমাকে বান্দরবান, পরশু আমাকে কক্সবাজার পাঠাবেন? দরকার নেই এসব।

কেস স্টাডি -২: একটি হাই স্কুল।  আগে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরও MPOভুক্ত ছিল। হাই স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ দেখলেন প্রভাষকবৃন্দ ৩ দিন আসেন ২ টি করে ক্লাস নেন, বেশি বেতন পান, এটা প্রেস্টিজের ব্যাপার।  তারা চক্রান্ত করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর তুলে দিলেন।

কেস স্টাডি -৩:   একটি None  MPO উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের  অধ্যক্ষ।  তার NTRCA সনদ নাই বলে নিয়োগ নিতে পারেননি।  তার জানেন  “প্রতিষ্ঠান MPOভুক্ত হলেতো আমার প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে। কি দরকার MPOভুক্ত করে?” লুটে পুটে খাই।

কেস স্টাডি -৪: একটি বি.এম  কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষককে বললাম “আপনারা প্রতিষ্ঠান MPO করেন না কেন? তিনি বললেন “MPOভুক্ত হলে দেশী বিদেশী মোটা অনুদান বন্ধ হবে, মারিং কাটিং, বিল ভাউচার চলবে না।”

কেস স্টাডি -৫: একজন স্কুল এন্ড  কলেজের প্রধান শিক্ষক বললেন “আমি যতদিন আছি, ততদিন উচ্চ মাধ্যমিক স্তর MPOভুক্ত হতে দিব না।” তার মাস্টার্স নাই, বাকী সব ৩য় বিভাগ।

কেস স্টাডি -৬: একজন ডিগ্রি  কলেজের ( ডিগ্রি স্তর None MPO) অধ্যক্ষ বললেন “উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দের জ্বালায়-ই অতিষ্ঠ আবার ডিগ্রি স্তর? যত্তসব!

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ! বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে তন্মধ্যে NTRCA এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ। শিক্ষা সচেতন মহল এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

তাই অনতিবিলম্বে আপনার সোনালি সময়কে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখতে  স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ চালু করে আপামর জনগণের চাহিদা পূরণ করবেন এ প্রত্যাশা  রইল।
——————–
ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
গবেষক ও কলামিস্ট, সিলেট
dr.1979sharif@gmail.com