ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ প্রথম বিদেশ সফর বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে শিক্ষাব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ শেষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে আর্থিক অনুদান প্রদান  তারাব পৌরসভার দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি (PRAP) এর আওতায় রিক্সা-ভ্যান ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত SAILOR খেলবে নারায়ণগঞ্জ ইন্টারস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ান রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল প্রি ক্যাডেট একাডেমি এন্ড মডেল হাই স্কুল। রূপগঞ্জকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলা হবে- মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মেসির জাদুকরী এক হ্যাটট্রিক আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ৩–০ গোলে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একমত।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯ টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত এ বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

উভয়ের একান্ত বৈঠকের পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় সোমবার (২২ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করি।

এসময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করছে। আমি মহামান্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একমত যে নিয়োগ স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য মধ্যবর্তী এবং কম খরচ  হওয়া উচিত।’

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই  প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চায়। আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দিতে আগ্রহী আমরা। আমি তার আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়েও মতবিনিময় করেছি। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতেও আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে দ্বিপাক্ষিক দলিলগুলো স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়েছে, আমি তা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিশীলতা বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় একান্ত এই বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

একান্ত বৈঠকের পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়। বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।

বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা এর আগেই জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র সচিব।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। পরে দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
superadmin
ট্যাগস :

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একমত।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯ টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত এ বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

উভয়ের একান্ত বৈঠকের পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় সোমবার (২২ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করি।

এসময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করছে। আমি মহামান্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একমত যে নিয়োগ স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য মধ্যবর্তী এবং কম খরচ  হওয়া উচিত।’

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই  প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চায়। আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দিতে আগ্রহী আমরা। আমি তার আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়েও মতবিনিময় করেছি। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতেও আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে দ্বিপাক্ষিক দলিলগুলো স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়েছে, আমি তা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিশীলতা বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় একান্ত এই বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

একান্ত বৈঠকের পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়। বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।

বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা এর আগেই জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র সচিব।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। পরে দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা।