ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন শিক্ষাক্রম, শিক্ষক, তদারকি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি পাঁচটি বিষয়কে জোর দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে পূবালী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন। নাসিরনগরে ১৪২ পুজা মন্ডপের প্রতিনিধিদের সাথে সভা রূপগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা উন্নয়ন ও কল্যান সমিতির গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন শাখার কমিটি গঠন আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত খেলাধুলায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান –প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দাঁতমন্ডল এরফানিয়া মাদ্রাসায় এমপি হান্নানকে সংবর্ধনা রূপগঞ্জকে এডুকেশন্যাল হাব তৈরি করা হবে – এমপি দিুপ ভূঁইয়া রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সচেতনতায় ক্যাম্পেইন আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন।

চাকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএসসহ ২৪ পদে  ছাত্রশিবির জয়ী, এজিএস পদে ছাত্রদল জয়ী

মোঃ রেহান উদ্দীন
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ৬৮৭ বার পড়া হয়েছে

চাকসুতে বিজয়ী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন (বাঁয়ে) ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব

চাকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএসসহ ২৪ পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা জয়ী, এজিএস পদে ছাত্রদল জয়ী

দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতৃত্বে ফিরেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা ভিপি-জিএসসহ ২৪টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটায় সপ্তম চাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের মো. ইব্রাহিম হোসেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের এমফিলের শিক্ষার্থী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্যানেলের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।

জিএস পদে ৮ হাজার ৩১ ভোট নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মো. শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩৪ ভোট।

Ccc

এজিএস পদে পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪ ভোট। ছাত্রশিবিরের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট। এ ছাড়া সহ–খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জিতেছেন তামান্না মাহবুব নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

চাকসুতে ২৬টি পদে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান।

এখন পর্যন্ত চাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাতবার—১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৯০ এবং এবার ২০২৫ সালে।

১৯৮১ সালের নির্বাচনে ছাত্রশিবির পেয়েছিল প্রথম জয়। এরপর ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র কাছে হেরে যায় তারা।

এরপরের দীর্ঘ তিন দশক চাকসু নির্বাচনই হয়নি। বন্ধ ছিল ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম।

নতুন প্রজন্মের ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে চাকসু। প্রথমবার ভোট দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি, কিন্তু চাকসুতে দিয়েছি— এটাই আমাদের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার শুরু।

Aaa

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণার সময় বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। প্রার্থী ও ভোটাররা নির্বাচনে অসাধারণ উৎসবমুখর অংশগ্রহণ করেছেন।

সাড়ে তিন দশক পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছে তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এই ভোট একেবারেই নতুন। এই ভোট ঘিরে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ–উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ভোটার ১১ হাজারের বেশি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দলে দলে ক্যাম্পাসে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন তাঁরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
superadmin
ট্যাগস :

চাকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএসসহ ২৪ পদে  ছাত্রশিবির জয়ী, এজিএস পদে ছাত্রদল জয়ী

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

চাকসুতে বিজয়ী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন (বাঁয়ে) ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব

চাকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএসসহ ২৪ পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা জয়ী, এজিএস পদে ছাত্রদল জয়ী

দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতৃত্বে ফিরেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা ভিপি-জিএসসহ ২৪টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটায় সপ্তম চাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের মো. ইব্রাহিম হোসেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের এমফিলের শিক্ষার্থী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্যানেলের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।

জিএস পদে ৮ হাজার ৩১ ভোট নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মো. শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩৪ ভোট।

Ccc

এজিএস পদে পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪ ভোট। ছাত্রশিবিরের সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট। এ ছাড়া সহ–খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জিতেছেন তামান্না মাহবুব নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

চাকসুতে ২৬টি পদে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান।

এখন পর্যন্ত চাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাতবার—১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৯০ এবং এবার ২০২৫ সালে।

১৯৮১ সালের নির্বাচনে ছাত্রশিবির পেয়েছিল প্রথম জয়। এরপর ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র কাছে হেরে যায় তারা।

এরপরের দীর্ঘ তিন দশক চাকসু নির্বাচনই হয়নি। বন্ধ ছিল ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম।

নতুন প্রজন্মের ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে চাকসু। প্রথমবার ভোট দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি, কিন্তু চাকসুতে দিয়েছি— এটাই আমাদের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার শুরু।

Aaa

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণার সময় বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। প্রার্থী ও ভোটাররা নির্বাচনে অসাধারণ উৎসবমুখর অংশগ্রহণ করেছেন।

সাড়ে তিন দশক পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছে তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এই ভোট একেবারেই নতুন। এই ভোট ঘিরে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ–উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ভোটার ১১ হাজারের বেশি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দলে দলে ক্যাম্পাসে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন তাঁরা।