বাড়তি নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারিতে আজ সারা দেশে একযোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু।
- আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
বাড়তি নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারিতে আজ মঙ্গলবার সারা দেশে একযোগে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু।
আজ মঙ্গলবার সারা দেশে একযোগে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এবার পরীক্ষা দেবে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ও ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। সারা দেশে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। আজ বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে।
গত বছরের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পৌনে ১ লাখ কমে গেছে। সাধারণ, কারিগরি, মাদ্রাসাসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গত বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন শিক্ষার্থী। এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭১ হাজার ৬২৬ জন। গত ছয় বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় বসছে।
এবার নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে শিক্ষা প্রশাসন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। শিক্ষা বোর্ডগুলোর জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২০ ধরনের সম্ভাব্য অপরাধ চিহ্নিত করে জেল ও বহিষ্কারসহ তিন স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
প্রথম স্তরে পরীক্ষা কক্ষে কথা বলা, ডেস্কে বা পোশাকে কোনো কিছু লেখা থাকা, ক্যালকুলেটরে তথ্য লুকিয়ে রাখা কিংবা মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখলে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
দ্বিতীয় স্তরে যদি কোনো পরীক্ষার্থী প্রশ্ন বা উত্তরপত্র হলের বাইরে পাচার করে, কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে হুমকি প্রদান করে কিংবা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করে, তবে তার ঐ বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছরের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।
তৃতীয় স্তরে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া (প্রক্সি), রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা, উত্তরপত্র বিনিময় করা এবং কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের শারীরিকভাবে আক্রমণ কিংবা অস্ত্রের প্রদর্শন করার মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সরাসরি দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে।
একই সঙ্গে এসব গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়ারি (জিডি) এবং নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করা হবে। যা কার্যকর করতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে ভিজিল্যান্স টিম নামানো হচ্ছে। এছাড়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই এমন কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
১১ শিক্ষা বোর্ডে দুই বছর আগে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। এর ভেতর এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। সেই হিসেবে প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তারা হয় ঝরে গেছে, না হয় আগের ক্লাস রয়ে গেছে। তবে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী এবার ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন।
সরকার ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করতে চায়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনবান্ধব সরকার ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ নামক শব্দটি দূর করতে চায়, সম্মানিত অভিভাবকদেরও আশ্বস্ত করতে চাই আপনারাও সন্তানদের নিয়ে অকারণে আতঙ্কিত হবেন না।
ঠিকভাবে খাতা দেখছে কি না, খতিয়ে দেখা হবে: গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা ঠিকভাবে দেখছেন কী না, এবার তা খতিয়ে দেখা হবে। আমরা মনিটরিং সেল করেছি। একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করেছি। সেখানে ডিসি ইউএনওসহ সবাই থাকছেন। খাতা দেখার সময় মানবিক নম্বরের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন কোনো ইনসট্রাকশন দেইনি যে মানবিক নম্বর দেবে। সাইবার নজরদারির মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কি না, তা নজরদারি করা হবে।
কেন্দ্র সচিবদের জানানো হয়েছে, তাত্ত্বিক পরীক্ষা যে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে, ব্যবহারিক পরীক্ষাও সেই কেন্দ্রেই নিতে হবে। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষক নিয়োগে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। কোনোভাবেই নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বহিরাগত পরীক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এখন থেকে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ রাখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় রাজধানীর এক বা একাধিক কেন্দ্র পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী কোন কেন্দ্রে যাবেন, তা আগেই গণমাধ্যমকে জানানো হয়। কিন্তু ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবার কোন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন, তা জানানো হয়নি। তিনি রাজধানীর কোনো কেন্দ্রে যাবেন, নাকি ঢাকার বাইরের কেন্দ্রে যাবেন; তাও বলতে নারাজ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, ‘মন্ত্রী কোথায় যাবেন, সেটা মন্ত্রী জানেন। অন্য কাউকে বলেননি।’












