শিরোনাম:
রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে
নাজমা মনি
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে
নিঃসন্দেহে আমরা সবাই রামিসা হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। একজন সচেতন নাগরিক ও লেখক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে—
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই সরকারকে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তবে একটি নির্বাচিত সরকার শুধুমাত্র বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর অনুসারী হয়ে থাকলে চলবেনা, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়াটাও তাদের দায়িত্ব।
সরকারের special powers হবে—আইনি প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করবার লক্ষ্যে প্রয়োজনবোধে নির্দেশ দেবেন —৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
কেননা —একটি রাজনৈতিক দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় শুধুমাত্র ক্ষমতায় বসার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার দায়িত্ব পালনের জন্য। রাষ্ট্রের প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা ও বৈধতা জনগণই তাদের দিয়েছে। মন্ত্রিত্ব বা প্রশাসন মূলত সেই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নেরই একটি কার্যকরী মাধ্যম।
সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি— এমন জঘন্যতম অপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার বিবেচনা করা যেতে পারে—
যেমন —
১) সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে “ন্যায়বিচার”-এর পাশাপাশি “Speedy Trial” বা দ্রুত বিচারকে স্পষ্ট মৌলিক অধিকার হিসেবে শক্তিশালীভাবে সংযোজন করা।
২) ফৌজদারি মামলার বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা করা।
৩) Mercy Petition নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ৩০–৬০ দিন) নির্ধারণ করা।
আমার বিশ্বাস, এ ধরনের সংস্কার ভবিষ্যতে বিচারপ্রক্রণার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করবে।












