ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও প্রবাসীদের ঘুমহীন রাত: স্বদেশচেতনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অনার্স কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগ একান্ত জরুরি।  সাংসদ এম এ হান্নান-কে এক গণসংবর্ধনা প্রদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়  ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান  নিয়োগ’ একান্তই জরুরি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। খুলনা দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায়  যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালিত । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! খন্ড খন্ডভাবে নয়; একযোগে  ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ’ চাই  আ’মলের তাৎপর্য (৪) প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে

নাজমা মনি
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৩১০ বার পড়া হয়েছে

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে

নিঃসন্দেহে আমরা সবাই রামিসা হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। একজন সচেতন নাগরিক ও লেখক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে—
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই সরকারকে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তবে একটি নির্বাচিত সরকার শুধুমাত্র বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর অনুসারী হয়ে থাকলে চলবেনা, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়াটাও তাদের দায়িত্ব।
সরকারের special powers হবে—আইনি প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করবার লক্ষ্যে প্রয়োজনবোধে নির্দেশ দেবেন —৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
কেননা —একটি রাজনৈতিক দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় শুধুমাত্র ক্ষমতায় বসার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার দায়িত্ব পালনের জন্য। রাষ্ট্রের প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা ও বৈধতা জনগণই তাদের দিয়েছে। মন্ত্রিত্ব বা প্রশাসন মূলত সেই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নেরই একটি কার্যকরী মাধ্যম।
সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি— এমন জঘন্যতম অপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার বিবেচনা করা যেতে পারে—
যেমন —
১) সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে “ন্যায়বিচার”-এর পাশাপাশি “Speedy Trial” বা দ্রুত বিচারকে স্পষ্ট মৌলিক অধিকার হিসেবে শক্তিশালীভাবে সংযোজন করা।
২) ফৌজদারি মামলার বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা করা।
৩)  Mercy Petition নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ৩০–৬০ দিন) নির্ধারণ করা।
আমার বিশ্বাস, এ ধরনের সংস্কার ভবিষ্যতে বিচারপ্রক্রণার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
superadmin
ট্যাগস :

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে

আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে

নিঃসন্দেহে আমরা সবাই রামিসা হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। একজন সচেতন নাগরিক ও লেখক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে—
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই সরকারকে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তবে একটি নির্বাচিত সরকার শুধুমাত্র বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর অনুসারী হয়ে থাকলে চলবেনা, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়াটাও তাদের দায়িত্ব।
সরকারের special powers হবে—আইনি প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করবার লক্ষ্যে প্রয়োজনবোধে নির্দেশ দেবেন —৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
কেননা —একটি রাজনৈতিক দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় শুধুমাত্র ক্ষমতায় বসার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করার দায়িত্ব পালনের জন্য। রাষ্ট্রের প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা ও বৈধতা জনগণই তাদের দিয়েছে। মন্ত্রিত্ব বা প্রশাসন মূলত সেই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নেরই একটি কার্যকরী মাধ্যম।
সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি— এমন জঘন্যতম অপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার বিবেচনা করা যেতে পারে—
যেমন —
১) সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে “ন্যায়বিচার”-এর পাশাপাশি “Speedy Trial” বা দ্রুত বিচারকে স্পষ্ট মৌলিক অধিকার হিসেবে শক্তিশালীভাবে সংযোজন করা।
২) ফৌজদারি মামলার বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা করা।
৩)  Mercy Petition নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ৩০–৬০ দিন) নির্ধারণ করা।
আমার বিশ্বাস, এ ধরনের সংস্কার ভবিষ্যতে বিচারপ্রক্রণার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করবে।