শিরোনাম:
কক্সবাজার এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
নাজমা মনি
- আপডেট সময় : ০৭:১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
সত্যিকারের একজন পুরুষ মানুষ একটি নিরাপদ ছায়া একটি নিরাপদ আশ্রয়।
পুরুষের এই মহত্ত্ব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের উর্ধ্বে —
ঝড় এলে যিনি ঢাল হয়ে দাঁড়ান, ভেঙে পড়লেও দায়িত্ব থেকে সরে যান না—তিনিই পুরুষ।
কাঁধে স্ত্রীর নিথর দেহ, বুকে আদরের শিশু সন্তান, আর পাশে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকা ছোট্ট মেয়েটির হাত শক্ত করে ধরে হাঁটছেন—
এই দৃশ্য কোনো সিনেমার নয়, এ আমাদের জীবনেরই এক নির্মম বাস্তব।
হয়তো সকাল বেলাতেও মানুষটি ভাবেননি, ঈদের আনন্দে পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাবে এমন দুর্ঘটনা।
ভাবেননি, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে তাঁর জীবনের সমস্ত রঙ নিভে যাবে।
একটি ট্রেন শুধু দু’টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি—
কেড়ে নিয়েছে একজন স্বামীর পৃথিবী,
একজন বাবার সমস্ত হাসি,
একটি ছোট্ট মেয়ের “মা” বলে ডাকবার শেষ আশ্রয়টুকু।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—
এত বড় শোক নিয়েও মানুষটি ভেঙে পড়ে থেমে যাননি।
কারণ তাঁর পাশে তখনও একটি ছোট্ট হাত ছিল,
যে হাত বাবাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাইছে।
হয়তো সেই ছোট্ট মেয়েটিই এখন তাঁর বেঁচে থাকার শেষ কারণ।
স্ত্রীর মরদেহ কাঁধে তুলে নিয়ে আশেপাশে থাকা মানুষজনকে তিনি কাঁপা কণ্ঠে বলছিলেন—
“ভাই, আমার ছেলের লাশটা বুকে তুলে দেন…”
আর ঠিক তখনই কেউ একজন শিশুটির নিথর দেহ তুলে দেয় বাবার বুকে।
ঈদযাত্রার আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় অসীম বিষাদে।
কাঁধে স্ত্রীর দেহ, বুকে সন্তানের নিথর শরীর,
আর বাম হাতে কান্নায় ভেঙে পড়া মেয়েটির ছোট্ট হাত—
হয়তো পৃথিবীর কোন কাব্যিক কিংবা সাহিত্যিক ভাষাই আমি একজন পুরুষের এই মুহূর্তের বেদনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারব না।
এই দৃশ্য দেখে কিংবা লিখতে গিয়ে কেবলই বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠছে…।
মনে হচ্ছে, মানুষের জীবনে এমন পরীক্ষা যেন মহান আল্লাহ আর কাউকে না দেন।
নরসিংদীতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় ঈদযাত্রায় থাকা মা ও সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু—
একটি পরিবারের জন্য আনন্দের যাত্রাকে চিরদিনের কান্নায় পরিণত করল।
মহান আল্লাহ নিহতদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অসহনীয় শোক বহনের শক্তি দিন।
আমিন।










