ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
আমি রুপগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করে যাবো,আল্লাহ ছাড়া আমি কাউকে ভয় পাই না. -দিপু ভুইয়া..সংসদ সদস্য,নাঃগঞ্জ-১ বাড়তি নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারিতে আজ সারা দেশে একযোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু। নাসিরনগরে জরুরী হাম-রুমেলা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভালো মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেন – মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ব্রাহ্মণ বাড়িয়ায় কৃষি  প্রণোদনা পেল ২৪৫০ জন কৃষক গোলাকান্দাইল প্রি ক্যাডেট একাডেমি এন্ড মডেল হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা রূপগঞ্জে একই বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি নাসিরনগরে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে এম পি কে সংবর্ধনা 

টিসিবি পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।

মোঃ রেহান উদ্দীন
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

টিসিবি পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।

দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি। সরবরাহ দ্বিগুণ করেও পণ্য কিনতে আসা মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না সংস্থাটি। প্রতিদিনই ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে খালি হাতে ফিরছে অনেক মানুষ।

গত ১০ আগস্ট থেকে দুই মাসের বিরতি শেষে আবারো টিসিবির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির নিত্যপণ্য পেতে এবারের লাইনে নিম্নবিত্তদের পাশাপাশি দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও। এমনকি বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও এখন সাশ্রয়ী পণ্যের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে টিসিবির ট্রাকসেলে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে আসা মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছেন আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে। কারণ, কাগজে কলমে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ব্যয়ের চাপ তেমন কমেনি। সাধারণ মানুষের চাওয়া একটাই, আয়-ব্যয়ের হিসাব যেন সহজে মেলাতে পারেন। এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আর তা সহজ করতে মূল্যস্ফীতির হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে, দীর্ঘ দিন মাস ধরেই মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে পিছিয়ে আছে বলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরো তীব্র করে তুলেছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি না বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন নিম্নবিত্তরা।

গত এক বছরের ব্যবধানে বাজারে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।  বিশেষ করে চাল, আটা, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে, যা পরিবারের দৈনন্দিন খরচে বড় অংশজুড়ে। কিছু পণ্য প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বেড়েছে। সরকারি উদ্যোগে টিসিবি আগস্ট মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৫০০ মানুষকে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল এবং চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। জনপ্রতি ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল এবং এক কেজি চিনি কিনতে পারছেন। টিসিবি তথ্য মতে, ঢাকা মহানগরীতে ৬০টি ট্রাকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্য বিক্রি চলবে। দেশের অন্যান্য জেলাসহ মোট ৫৪ লাখ পরিবার বর্তমানে সক্রিয় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে এ সুবিধা পেতে পারবে।

Images1000127880

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি পণ্য বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রমে রাজধানীর আশপাশের এলাকায় যা দেখা গেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। আবার পূর্বঘোষিত স্থানে নির্ধারিত সময়ের পরে ট্রাক আসায় পণ্য কেনার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছে। দুর্বল ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পণ্য কিনতে ব্যর্থ হন। নির্ধারিত স্থানে টিসিবির ট্রাক কখন আসবে জানেন না অনেকে। তারপরও সকাল থেকে রাস্তার ধারে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এতে পণ্য কিনতে যাওয়া মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হলেও তা সহ্য করছেন। এরপরও সুলভে পণ্য কিনতে আসা নিম্ন আয়ের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না টিসিবি। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর খালি হাতেই ফিরছেন অনেকে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে দেখা গেছে, মানুষের সারি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। দুপুর ৩টার পর পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যায় ট্রাকটি। কিন্তু পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে দুর্বল ও বয়স্ক ব্যক্তিদেরকে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, সকাল থেকে লাইনে ছিলাম। কিন্তু কিনতে পারিনি। কাল আবার দাঁড়াব।  তিনি বলেন, টিসিবির পণ্যগুলো কম দামে দেয়ায় সাধারণ মানুষ বেশি ভিড় করেন। বাজারে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি; এ কারণে মানুষ এখানে ভিড় করেন। অনেকে সকাল থেকে শুধু অপেক্ষা করেন কখন ট্রাক আসবে। সবাই পণ্য পান না। ক্রেতার সংখ্যা বেশি, পণ্য সীমিত। টিসিবি যদি পণ্য দেয়ার পরিমাণ বাড়ায় তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আরো ভালো হয়; সবারই পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।

পণ্য নিতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। কেও কেও বলেন, পণ্য দেয়ার পরিমাণ বাড়ালে সাধারণ মানুষের আরো উপকার হতো। পণ্য না পেয়ে যারা ফিরে যাচ্ছেন তাদের তো দিনের কাজ কোনোটাই ঠিকমতো হয় না। আবার তারা পণ্য না নিয়ে ঘরে ফিরছেন হতাশ হয়ে। বাজারে পেঁয়াজ ও আটার দামও বেড়ে গেছে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ তেল, ডাল, চিনির সঙ্গে পেঁয়াজ ও আটাও যেন সাশ্রয়ী দামে দেয়া হয়।

পণ্য সংকট ও খালি হাতে নিম্ন আয়ের মানুষের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি এলাকার গরিব মানুষ যাতে পণ্য পায়। এজন্য প্রতিদিন স্থান পরিবর্তন করা হয়। আমরা ধাপে ধাপে সংখ্যা বাড়িয়েছি। এখন প্রতিটি ট্রাকে ৫০০ জনের জন্য পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো ঢাকায় ৫০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবটুকু চেষ্টা করছি, যেন কেউ খালি হাতে ফিরে না যায়। আশা করি আগামীতে চাহিদা বিবেচনায় এ সংখ্যা আরো বাড়াতে পারব। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমরা জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, বাজারে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের পণ্য না দিয়ে কোনো ডিলার অবৈধভাবে মজুত করলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে তার ডিলারশিপও বাতিল করা হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদারকি করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
superadmin
ট্যাগস :

টিসিবি পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।

আপডেট সময় : ০৪:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

টিসিবি পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।

দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের সারি। সরবরাহ দ্বিগুণ করেও পণ্য কিনতে আসা মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না সংস্থাটি। প্রতিদিনই ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে খালি হাতে ফিরছে অনেক মানুষ।

গত ১০ আগস্ট থেকে দুই মাসের বিরতি শেষে আবারো টিসিবির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির নিত্যপণ্য পেতে এবারের লাইনে নিম্নবিত্তদের পাশাপাশি দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও। এমনকি বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও এখন সাশ্রয়ী পণ্যের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে টিসিবির ট্রাকসেলে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে আসা মানুষের ভিড় বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছেন আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে। কারণ, কাগজে কলমে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ব্যয়ের চাপ তেমন কমেনি। সাধারণ মানুষের চাওয়া একটাই, আয়-ব্যয়ের হিসাব যেন সহজে মেলাতে পারেন। এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আর তা সহজ করতে মূল্যস্ফীতির হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে, দীর্ঘ দিন মাস ধরেই মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে পিছিয়ে আছে বলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরো তীব্র করে তুলেছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি না বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন নিম্নবিত্তরা।

গত এক বছরের ব্যবধানে বাজারে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।  বিশেষ করে চাল, আটা, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে, যা পরিবারের দৈনন্দিন খরচে বড় অংশজুড়ে। কিছু পণ্য প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বেড়েছে। সরকারি উদ্যোগে টিসিবি আগস্ট মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৫০০ মানুষকে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল এবং চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। জনপ্রতি ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল এবং এক কেজি চিনি কিনতে পারছেন। টিসিবি তথ্য মতে, ঢাকা মহানগরীতে ৬০টি ট্রাকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্য বিক্রি চলবে। দেশের অন্যান্য জেলাসহ মোট ৫৪ লাখ পরিবার বর্তমানে সক্রিয় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে এ সুবিধা পেতে পারবে।

Images1000127880

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি পণ্য বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রমে রাজধানীর আশপাশের এলাকায় যা দেখা গেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। আবার পূর্বঘোষিত স্থানে নির্ধারিত সময়ের পরে ট্রাক আসায় পণ্য কেনার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছে। দুর্বল ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পণ্য কিনতে ব্যর্থ হন। নির্ধারিত স্থানে টিসিবির ট্রাক কখন আসবে জানেন না অনেকে। তারপরও সকাল থেকে রাস্তার ধারে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এতে পণ্য কিনতে যাওয়া মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হলেও তা সহ্য করছেন। এরপরও সুলভে পণ্য কিনতে আসা নিম্ন আয়ের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না টিসিবি। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর খালি হাতেই ফিরছেন অনেকে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে দেখা গেছে, মানুষের সারি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। দুপুর ৩টার পর পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যায় ট্রাকটি। কিন্তু পণ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে দুর্বল ও বয়স্ক ব্যক্তিদেরকে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, সকাল থেকে লাইনে ছিলাম। কিন্তু কিনতে পারিনি। কাল আবার দাঁড়াব।  তিনি বলেন, টিসিবির পণ্যগুলো কম দামে দেয়ায় সাধারণ মানুষ বেশি ভিড় করেন। বাজারে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি; এ কারণে মানুষ এখানে ভিড় করেন। অনেকে সকাল থেকে শুধু অপেক্ষা করেন কখন ট্রাক আসবে। সবাই পণ্য পান না। ক্রেতার সংখ্যা বেশি, পণ্য সীমিত। টিসিবি যদি পণ্য দেয়ার পরিমাণ বাড়ায় তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আরো ভালো হয়; সবারই পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।

পণ্য নিতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। কেও কেও বলেন, পণ্য দেয়ার পরিমাণ বাড়ালে সাধারণ মানুষের আরো উপকার হতো। পণ্য না পেয়ে যারা ফিরে যাচ্ছেন তাদের তো দিনের কাজ কোনোটাই ঠিকমতো হয় না। আবার তারা পণ্য না নিয়ে ঘরে ফিরছেন হতাশ হয়ে। বাজারে পেঁয়াজ ও আটার দামও বেড়ে গেছে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ তেল, ডাল, চিনির সঙ্গে পেঁয়াজ ও আটাও যেন সাশ্রয়ী দামে দেয়া হয়।

পণ্য সংকট ও খালি হাতে নিম্ন আয়ের মানুষের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি এলাকার গরিব মানুষ যাতে পণ্য পায়। এজন্য প্রতিদিন স্থান পরিবর্তন করা হয়। আমরা ধাপে ধাপে সংখ্যা বাড়িয়েছি। এখন প্রতিটি ট্রাকে ৫০০ জনের জন্য পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো ঢাকায় ৫০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবটুকু চেষ্টা করছি, যেন কেউ খালি হাতে ফিরে না যায়। আশা করি আগামীতে চাহিদা বিবেচনায় এ সংখ্যা আরো বাড়াতে পারব। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমরা জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, বাজারে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের পণ্য না দিয়ে কোনো ডিলার অবৈধভাবে মজুত করলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে তার ডিলারশিপও বাতিল করা হবে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদারকি করছেন।